Logo

ট্রাফিক সিগন্যালে এআই ক্যামেরা, নিয়ম ভাঙলেই অটো মামলা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মে, ২০২৬, ১৩:৫৬
ট্রাফিক সিগন্যালে এআই ক্যামেরা, নিয়ম ভাঙলেই অটো মামলা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। নতুন এই ব্যবস্থায় সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ও স্থিরচিত্রের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে ডিএমপির আওতাধীন এলাকায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এতে এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভাঙার ঘটনা ঘটলেই তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটালভাবে মামলা প্রক্রিয়াকরণ হবে, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানতে পারবেন না।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে অটো জেনারেটেড মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক ও চালকের ঠিকানায় ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নোটিশ পাঠানো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ না করলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে পূর্বে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবা উন্নত করার লক্ষ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে অটো নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, লাল সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইনের বাইরে গাড়ি রাখা, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, লেন ব্লক করা, হেলমেট ও সিটবেল্ট না পরা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহারসহ বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধ এখন এআই ক্যামেরার নজরদারিতে আনা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গাড়ি যিনি চালান না কেন, আইন ভাঙলে দায় যাবে নিবন্ধিত মালিকের ওপর। তাই মালিকদের গাড়ির ব্যবহার ও চালকের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত মোবাইল নম্বর হালনাগাদ রাখার কথাও বলা হয়েছে, যাতে জরিমানার তথ্য সময়মতো পাওয়া যায়।

ডিএমপি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরা বা এআই-ভিত্তিক মামলার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে না। কোনো চক্র যদি এসব নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করে, তবে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে এবং নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হওয়ায় রাজধানীতে আইন প্রয়োগ আরও স্বচ্ছ ও কঠোর হবে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জেবি/জেএইচআর/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD