Logo

যে চার অভিযোগে আবারও ভাঙল আবু ত্বহা-সাবিকুন নাহারের সংসার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ মে, ২০২৬, ২০:৪৪
যে চার অভিযোগে আবারও ভাঙল আবু ত্বহা-সাবিকুন নাহারের সংসার
ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত তরুণ ইসলামি বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান ও তার স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার দাম্পত্য জীবন আবারও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। প্রথমবার বিচ্ছেদের পর পারিবারিক উদ্যোগে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও দ্বিতীয়বার সংসার শুরুর মাত্র চার মাসের মাথায় ফের আলাদা হয়ে গেলেন তারা।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১০ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাবিকুন নাহার সারার বড় বোন মোছাম্মাত হাজেরা।

তিনি জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মতবিরোধের কারণে ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তারা দুজন।

মোছাম্মাত হাজেরা বলেন, ত্বহা ও নাহার নতুনভাবে সংসার শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। দুই পরিবারও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক আর টেকেনি। শেষ পর্যন্ত গত পবিত্র রমজান মাস শেষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার রাতে অর্থাৎ ঈদের আগের রাতে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

বিচ্ছেদের কারণের বিষয়ে আদনানের নামে গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন মোছাম্মাত হাজেরা। ছোট বোন সাবিকুন নাহারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আদনান চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। বিয়ের কথা বলে মেয়েদের ছবি নেন, তাদের সঙ্গে কফি খান; কিন্তু বিয়ে করেন না।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, আদনান অত্যন্ত বদমেজাজি ছিলেন। দ্বিতীয়বার বিয়ের পর তিনি সাবিকুন নাহারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং স্ত্রীকে নিজের মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে নিরুৎসাহিত করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

হাজেরা আরও বলেন, বিলাসী জীবনযাপনের কারণে আদনান বিভিন্ন সময় ঋণে জড়িয়েছেন। পরে মানুষের কাছে নিজেকে ঋণগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরে সহায়তা নিতেন এবং ঋণ পরিশোধে সাহায্য করলে সওয়াব হবে বলেও প্রচার করতেন।

আরও একটি অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পাবনার অনার্সপড়ুয়া আয়শা নামের এক তরুণীর জন্য একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে দেন আদনান। ওই তরুণীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

হাজেরার দাবি, এসব বিষয় নিয়ে সাবিকুন নাহার আপত্তি জানালে আবু ত্বহা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানতে তালাকের প্রসঙ্গ ওঠে এবং পরে তাদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিচ্ছেদ ও ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবু ত্বহা আদনানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিচ্ছেদের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতেই যৌথ ও চূড়ান্ত তালাক হয়েছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলতে চান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো অপবাদ এবং এসবের জবাব দেওয়ার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আবু ত্বহা আদনান ও সারা। প্রথম বিচ্ছেদের পর দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যস্থতায় তাদের পুনর্মিলন ঘটে। নতুন করে সংসার শুরু করলেও সেই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

এর আগে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ২১ অক্টোবর প্রথমবার বিচ্ছেদ হয়েছিল তাদের। পরে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবার একসঙ্গে পথচলা শুরু করলেও দ্বিতীয় দফার সেই সংসারও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও আলাদা হয়ে গেলেন এই দম্পতি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD