ঈদ টিকিটে প্রতারণা ঠেকাতে রেলওয়ের সতর্কবার্তা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারকচক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার নামে বিকাশ, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ বাড়তে থাকায় যাত্রীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদে টিকিট সংগ্রহ নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ ‘রেল সেবা’ ব্যবহার করে টিকিট কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা অননুমোদিত মাধ্যম থেকে টিকিট কিনতে গেলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। একই দিন থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করছে। তারা দাবি করছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিত টিকিট সরবরাহ করা সম্ভব।
তবে বাস্তবে এসব ব্যক্তির টিকিট সংগ্রহের কোনো বৈধ সক্ষমতা নেই। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিকাশ, নগদ বা অন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও সিমকার্ডও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ‘রেল সেবা’ অ্যাপ ছাড়া অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম বা ব্যক্তি টিকিট বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়।
বিজ্ঞাপন
একটি নিবন্ধিত আইডি ব্যবহার করে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এ সময় সহযাত্রীদের নামও সিস্টেমে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা নিবন্ধিত আইডি ব্যবহার করে টিকিট কেনা হবে, যাত্রার সময় সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
এ ছাড়া টিকিটে উল্লেখিত যাত্রী ও সহযাত্রী ছাড়া অন্য কেউ ভ্রমণ করলে সেটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় বা অন্য কারও আইডি ব্যবহার করে কেনা টিকিট বিক্রির চেষ্টা করে, তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)-এর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানোর সুযোগও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি যাত্রীচাপের সুযোগ নিয়ে প্রতারকচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ যাত্রীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রেলওয়ে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া টিকিট সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন বা পোস্টে প্রলুব্ধ না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত ভ্রমণের জন্য সরকারি নির্ধারিত মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে টিকিট কেনা থেকে বিরত থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।








