রাজনৈতিক অরাজকতা করতে চাইলে আমরা বসে থাকবো না: তারেক রহমান

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনীতির নামে কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি বা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা কেউ বসে থাকবো না।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই সরকার এখন ধাপে ধাপে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখে এসেছেন রাজনীতি মানে উন্নয়নমূলক কাজ, খাল খনন, শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা এবং মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনো অনেক পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসেনি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান কার্যক্রম যে বাজেট থেকে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি বিএনপি সরকারের প্রণীত বাজেট নয়। ফলে ওই বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ছিল না। আগামী জাতীয় বাজেটে এই খাতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগামী চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণ করে বর্তমান সরকার মেয়েদের ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে চায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, শুধু বিনামূল্যে শিক্ষা নয়, মেধাবী ছাত্রীদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতার মধ্যে একজন ইপিজেড স্থাপনের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করলে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে এ বিষয়ে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত হলে চাঁদপুরে দ্রুত একটি ইপিজেড গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশ গঠনে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব। বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের শ্রম ও সক্ষমতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। এখন সময় দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের।








