চিৎকার শুনেও বুঝতে পারিনি ওটা আমার মেয়েই ছিল: রামিসার মা

রাজধানীর পল্লবীতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছর বয়সী রামিসা আক্তারের মা জানিয়েছেন, মেয়ের চিৎকার শুনলেও তখন বুঝতে পারেননি সেটি তার নিজের সন্তানের কণ্ঠ।
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাবা-মা ও বড় বোনের সঙ্গে পল্লবীর একটি ভাড়া বাসায় থাকত। প্রতিবেশী এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে।
রামিসার মা পারভিন আক্তার বলেন, চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন, তবে বুঝতে পারেনি ওটা আমার মেয়েই ছিল। তিনি ভেবেছিলেন, রামিসা বড় বোনের সঙ্গে বাইরে গেছে। পরে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে মেয়েকে খুঁজতে শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সব ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দেওয়া হলেও একটি কক্ষের দরজা খোলা হয়নি। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিষয়ে রামিসার বড় বোন রাইসা জানায়, সে চাচার বাসায় যাচ্ছিল। রামিসাও সঙ্গে যেতে চাইলে তাকে ঘরে থাকতে বলে বের হয়ে যায়। পরে রামিসা পেছন পেছন বের হলেও সে খেয়াল করেনি। তার দাবি, তখনই অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
রামিসার মা বলেন, মেয়েটির এক পায়ে জুতা ছিল, অন্যটি পরারও সুযোগ পায়নি। দরজার সামনে পড়ে থাকা জুতা দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, অভিযুক্তকে পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। বুধবার পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন রামিসার বাবা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আলামত সংগ্রহ করে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নির্যাতনের পর মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে অভিযুক্ত জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে আগেও একটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।








