‘রাস্তার পাশে ছিলাম, বোনটাকে বাঁচাতে পারলাম না’— রামিসার চাচাতো ভাই

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোক আর ক্ষোভে ভেঙে পড়েছে পরিবার ও স্বজনরা। ঘটনার পরদিনও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২১ মে) কান্নায় ভেঙে পড়ে নিহত শিশুটির চাচাতো ভাই ফেরদৌস সুলতান বলেন, তিনি বাসার পাশের রাস্তাতেই ছিলেন, কিন্তু ঘটনার কিছুই বুঝতে পারেননি। বুকফাটা আর্তনাদে তিনি বলেন, “আমি তো রাস্তার পাশেই ছিলাম ভাই, কিন্তু কিছুই টের পাইনি। আমার ছোট বোনটাকে ওরা নির্মমভাবে মেরে ফেলল, আমি বাঁচাতে পারলাম না।”
তিনি জানান, গত রাতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে এশার নামাজের পর রামিসাকে দাফন করা হয়। পুরো এলাকায় তখন শোকের মাতম চলছিল।
বিজ্ঞাপন
ফেরদৌস সুলতান আরও বলেন, ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ যে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, “এই ঘাতক সোহেলের ফাঁসি চাই। এর থেকেও কঠিন শাস্তি থাকলে সেটাই চাইতাম।”
তিনি জানান, রামিসার বাবা-মা এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কারও সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না তারা। শুধু মেয়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
এদিকে নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, মেয়েকে ঘিরেই ছিল তার সব স্বপ্ন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “মেয়ে ছিল আমার হৃদপিণ্ড। কষ্ট করে হলেও ওকে কোনো কিছুর কমতি দিইনি। দুই দিন আগে বোরকা কিনে দিয়েছি। এখন সেই বোরকা কে পরবে?”
বিজ্ঞাপন
পরে ক্ষোভ আর অসহায়ত্বে তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি আর কোনো বিচার চাই না। আল্লাহই বিচার করবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নাম রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা তাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে তাকে নিখোঁজ পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার। এক পর্যায়ে অভিযুক্তের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান স্বজনরা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি লাল বালতির ভেতর পাওয়া যায় তার বিচ্ছিন্ন মাথা।
এজাহারে আরও বলা হয়, ধর্ষণের পর হত্যার মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে শরীরের অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পরে অভিযুক্ত জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় সোহেল রানা ও তার সহযোগীরা শিশুটিকে জোরপূর্বক ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় এবং বাথরুমে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ লুকিয়ে রাখে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়রা দরজায় ধাক্কা দিলে স্বপ্না আক্তার অভিযুক্তদের পালাতে সহায়তা করেন। পরে তাকেও আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এরপর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানা গ্রেপ্তার হন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








