ঈদযাত্রা শুরু : ট্রেন-বাসে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ইতোমধ্যে ট্রেন ও বাসে করে গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন হাজারো যাত্রী। তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের আশায় অনেকেই বেছে নিচ্ছেন রেলপথ। ফলে রাজধানীর প্রধান রেলস্টেশনগুলোতে বেড়েছে যাত্রীচাপ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা। আগের দিনের তুলনায় আজ যাত্রীসংখ্যা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যাত্রীচাপ তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি ছিল।
রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের মধ্যে ছিল ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ। যদিও কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে গেছে। সকালে চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এবং চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
যাত্রীরা বলছেন, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ভিড় ও ভোগান্তি তত বাড়বে। তাই আগে থেকেই টিকিট কেটে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেন ও বাসে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে।
একাধিক যাত্রী জানান, ট্রেন মাঝে মাঝে দেরিতে ছাড়লেও সড়কপথের তুলনায় এটি নিরাপদ ও আরামদায়ক। তাই সামান্য বিলম্বকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন না তারা।
সুলতান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগেই ছুটি হয়ে যাওয়ায় আগে ভাগেই বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। পরে যাত্রীচাপ বেড়ে গেলে যাত্রা আরও কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দিনভর ঢাকা থেকে ৪৬টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে। এসব ট্রেনে প্রায় ৪৫ হাজার আসনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার দাঁড়িয়ে যাত্রার সুযোগ থাকবে।
এদিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল-এ সকাল থেকেই ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দূরপাল্লার বেশিরভাগ বাস সময়মতো ছেড়ে গেলেও কিছু রুটে অতিরিক্ত চাপের কারণে ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনেক চাকরিজীবী এখনও সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার আগেই স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এতে ঈদের আগের কয়েকদিনেই যাত্রীচাপ বাড়তে শুরু করেছে।
বিজ্ঞাপন
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে জানান, এবারের ঈদযাত্রায় শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতেও কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে মহাখালী এলাকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক বলেন, যাত্রাপথে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।








