Logo

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে মানুষের ঢল, নাড়ির টানে বাড়ির পথে নগরবাসী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মে, ২০২৬, ১৫:০৫
ঈদযাত্রায় কমলাপুরে মানুষের ঢল, নাড়ির টানে বাড়ির পথে নগরবাসী
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। কর্মব্যস্ত নগরজীবন আর যান্ত্রিক ক্লান্তি পেছনে ফেলে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে ট্রেনযোগে গ্রামের পথে ছুটছেন নগরবাসী। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর পুরো স্টেশন এলাকা।

বিজ্ঞাপন

স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছিল যাত্রীদের কোলাহল, ট্রেনের হুইসেল, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন অপেক্ষা। কেউ হাতে ট্রাভেল ব্যাগ, কেউ আবার মাথায় মালপত্র নিয়ে ট্রেন ধরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অনেককে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে গল্প করতে কিংবা ছবি তুলতেও দেখা যায়।

ঈদকে ঘিরে এই যাত্রা শুধু বাড়ি ফেরা নয়, বরং দীর্ঘদিন পর পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আবেগও বহন করছে। তাই কমলাপুর রেলস্টেশন যেন পরিণত হয়েছে মানুষের অনুভূতি, ভালোবাসা আর অপেক্ষার এক বিশাল মিলনমেলায়।

বিজ্ঞাপন

জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী মোহাম্মদ আল-আমিন জানান, চাকরির কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। স্ত্রী ও সন্তানদের কয়েকদিন আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অফিস শেষে তিনিও এখন বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদের সময়টুকুই পরিবারের সঙ্গে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। মা বারবার ফোন করে কখন পৌঁছাবেন জানতে চাইছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাসিন্দা শারমিন আক্তার যাচ্ছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শ্বশুরবাড়িতে। তিনি জানান, তার সন্তান ট্রেনে ভ্রমণ করতে খুব পছন্দ করে। গ্রামের খোলা পরিবেশ, আত্মীয়স্বজন আর ঈদের উৎসব মিলিয়ে শিশুদের কাছে এই ভ্রমণ আলাদা আনন্দ নিয়ে আসে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ঈদের ছুটি অল্প হলেও পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর চেষ্টা করেন তিনি। এবার টিকিট পেতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও ট্রেন ভ্রমণকে এখনও সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক মনে করেন তিনি। কারণ সড়কপথের দীর্ঘ যানজট এড়ানো যায়।

বিজ্ঞাপন

স্টেশনের বাইরেও ছিল যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই স্টেশনে এসে পৌঁছেছেন। তাদের ভাষ্য, শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত ভিড় ও ঝামেলা এড়াতেই আগে চলে আসা ভালো।

খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী কলেজ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতেই গ্রামের বাড়ি ফেরা। বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়দের সঙ্গে আড্ডা—এসবের জন্যই সারা বছর অপেক্ষা করেন তিনি।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে স্টেশনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। টিকিট যাচাই, যাত্রীদের ওঠানামা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা তৎপর ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তবে যাত্রীদের একটি অংশ টিকিট সংকট নিয়ে অভিযোগ করেছেন। অনেকেই কাঙ্ক্ষিত দিনের টিকিট পাননি বলে জানিয়েছেন। রাসেল আহমেদ নামের এক যাত্রী বলেন, অনলাইনে বহু চেষ্টা করেও আগের দিনের টিকিট পাননি। পরে সৌভাগ্যক্রমে আজকের টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে তার বড় ভাই এখনও টিকিট পাননি।

আরেক যাত্রী কামরুজ্জামান বাবু জানান, অ্যাপে প্রবেশ করতে করতেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। তবুও পরিবারের কাছে ফিরতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।

বিজ্ঞাপন

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে মানুষের আবেগঘন বাড়ি ফেরার চিত্র। কষ্ট, ভোগান্তি কিংবা দীর্ঘ অপেক্ষা—সবকিছুকে ছাপিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দই যেন হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD