রবিবার জঙ্গল সলিমপুরে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। আগামী রবিবার তারা এলাকাটি সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অনেক কর্মকর্তার ছুটি বাতিল কিংবা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। যদিও সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনার আগে থেকেই এই সফরের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় দুর্বৃত্তরা নির্মাণাধীন একটি নিরাপত্তা ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলে। পরে পুলিশ ও র্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে যায়। সংঘর্ষের সময় সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে একটি সড়কও কেটে দেয়।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একই এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন চট্টগ্রাম র্যাবের উপসহকারী পরিচালক ও ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। ওই ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়।
পরবর্তীতে ৯ মার্চ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত এই পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বহু ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযান চলাকালে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে জঙ্গল সলিমপুরের সব প্রবেশ ও বাহিরের পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। পরে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
সাম্প্রতিক হামলার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, এই সফরের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








