Logo

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের পেছনে দায়ী আ. লীগ সরকার: তথ্যমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুন, ২০২৬, ১৩:১৮
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের পেছনে দায়ী আ. লীগ সরকার: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান চাপের জন্য সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচারকে দায়ী করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অতীতের অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির প্রভাব এখনও বহন করতে হচ্ছে, যার ফলে এই খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় ও পাচারের ঘটনা অতীতে ঘটেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব এখনও দেশের অর্থনীতি ও জনগণের ওপর পড়ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার অনিয়মের কারণে সৃষ্ট আর্থিক বোঝা বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় এবং এ অবস্থা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে সময় প্রয়োজন।

জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যসংক্রান্ত চাপ থেকে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে আনতে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে সহায়তা করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগে সীমিত ব্যবহারকারীদের জন্য সেই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি মূল্য আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে, যাতে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ অতিরিক্ত আর্থিক চাপে না পড়েন।

জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অকটেন ও পেট্রোলের মূল্য সমন্বয় করা হলেও সাধারণ মানুষের চলাচল এবং পরিবহন খাতের ব্যয় বিবেচনায় ডিজেলের দাম দ্বিতীয় দফায় আর বাড়ানো হয়নি। এর মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে অতীতের জ্বালানি নীতিরও সমালোচনা করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সময়ে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও বিশেষ সুবিধাভোগী মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্য দেশের বিদ্যুৎ খাতকে পরিকল্পিতভাবে আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল। তার মতে, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে আমদানির ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে খাতটি নানা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরও টেকসই, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কাজ করছে। অতীতের অনিয়ম দূর করে খাতটিকে একটি স্থিতিশীল কাঠামোর মধ্যে আনার জন্য বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং সেবার মান উন্নত করতে বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD