Logo

আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুন, ২০২৬, ১৬:১৪
আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন | ফাইল ছবি

রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রবিবার বিকেলের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং সেই উত্তর সন্তোষজনক না হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জনস্বার্থে এবং মানুষের জীবনের স্বার্থে আইনানুযায়ী শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা হবে। 

মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের দাবি যাই হোক না কেন, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় গ্রাম থেকে উপজেলা ও উপজেলা থেকে ঢাকামুখী দুই পর্যায়েই অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে বলেও জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির (বুয়েট) সাথে একটি বৈঠক হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দুই ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ বা প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে ১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ৯০০ বর্গফুটের যে পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখা হয়েছিল, তা ছিল চারপাশ থেকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ এবং সেখানে কোনো বিকল্প ভেন্টিলেশন বা আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতিতে রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এসি বন্ধ থাকায় কক্ষটিতে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে নবজাতকদের শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে, ঘটনার সময় ওয়ার্ডটিতে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং শিশুরা মুমূর্ষু অবস্থায় চলে গেলেও নার্সরা কোনো চিকিৎসককে ডাকেননি। নার্সদের দায়িত্বে চরম অবহেলা, যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব এবং হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তীব্র দায়িত্বহীনতা ও ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু জরুরি সুপারিশ করেছে। প্রথমত, হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যবহৃত ভবনের উপযুক্ততা নিশ্চিতকরণ এবং যত্রতত্র কাচের কক্ষ নির্মাণ বন্ধ করে জরুরি ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স’ ব্যবস্থা সক্রিয় করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত সেবিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের অতিরিক্ত উপস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সর্বোপরি, বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভবন পরিদর্শন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার জন্য নীতিগত শর্তারোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD