Logo

গ্রামে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ জুন, ২০২৬, ২১:২৮
গ্রামে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের গ্রামীণ জনপদে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি দাবি করেন, দেশের অনেক গ্রামে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট আলোচনায় সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে লোডশেডিং বা অন্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বাস্তবতা হলো গ্রামাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ চালু না হওয়া নিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তার বক্তব্যে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়েছিল যে মে মাসের শুরু থেকেই আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আরও এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো সেখানে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, ঠিক কবে নাগাদ আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশের বর্তমান গ্যাস সংকটের বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ সীমিত হওয়ায় সরকারকে বিভিন্ন খাতের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে কিছু শিল্প ও সার কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে সার কারখানাগুলোতেও গ্যাস প্রয়োজন। সীমিত সরবরাহের কারণে সব খাতে একসঙ্গে চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম যথাযথভাবে এগোয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে খনন কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন গ্যাসের উৎস পাওয়া গেলে আশুগঞ্জ সার কারখানাসহ অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীর আগের ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদে পূর্বে আশুগঞ্জে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

স্পিকার ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন সক্ষমতা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বাস্তবসম্মত তথ্য যাচাই করে তবেই সংসদে ঘোষণা দেওয়া উচিত।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD