ফ্যামিলি কার্ডে বড় বরাদ্দ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতা বাড়ছে

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ খাতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ কাঠামোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনই সরকারের উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এর আওতায় পরিবারের প্রধান নারী প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতাও অব্যাহত থাকবে।
৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ট্রেনে শতভাগ বিনামূল্যে যাতায়াত এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি শিক্ষার স্তর অনুযায়ী ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া মা ও শিশুর সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার উপকারভোগীকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ক্যানসারসহ ছয়টি জটিল রোগে আক্রান্তদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি উভয় উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বাজেটের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে বড় পরিসরে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।








