মহাখালী বাস ডিপো যাচ্ছে পূর্বাচলে, আসছে একাধিক নতুন উদ্যোগ

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন যানজট কমাতে বাসগুলোর ডিপো অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সায়দাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের জন্যও বিকল্প স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা।
বৈঠকে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন পরিচালনা, হকার ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল সংস্কার এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকা শহরের ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা এবং হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, হকার উচ্ছেদের পরিবর্তে একটি সুশৃঙ্খল ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। ড. হাদিউজ্জামান বলেন, এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে এবং নির্মাণকাজের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাই প্রকল্পটি বাতিল না করে কীভাবে এর অবকাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটিকে গণপরিবহন করিডোর হিসেবে উন্নত করা এবং বিদ্যমান বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিকল্প পরিকল্পনা ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ড. হাদিউজ্জামান জানান, মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলো বর্তমানে রাস্তার ওপর অবস্থান করায় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসগুলোর ডিপোর জন্য পূর্বাচলে অস্থায়ী স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাত্রা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বাসগুলো টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলবে এবং পরে গন্তব্যে রওনা হবে।
তিনি আরও জানান, সায়দাবাদ এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের ক্ষেত্রেও বিকল্প অস্থায়ী স্থান চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি এসব টার্মিনালের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
বৈঠকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শাহবাগে আগামী সপ্তাহ থেকে ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এটি চালু হলে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট কিছুটা কমবে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সায়দাবাদ বাস টার্মিনালকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কাঁচপুর এলাকায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুলিস্তান থেকে বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
হকারদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একদিকে হকারদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হবে না, অন্যদিকে বিশৃঙ্খল অবস্থাও চলতে দেওয়া হবে না। এমন একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং জীবিকানির্ভর মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মহাখালী এলাকায় সড়কের ওপর বাস পার্কিং বন্ধ করতে পূর্বাচলে ডিপো স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও তিনি জানান।







