পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রম ভবনের পথে নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে সড়কে অবস্থান নেওয়া নাসা গ্রুপের শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচি শেষ করেছে পুলিশ। দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের শ্রম ভবনের দিকে যেতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার পর নাসা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা ছাড়াও চাকরি হারানোর পর যে ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার কথা, তা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এসব দাবির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন। সকাল ১০টার কিছু সময় পর তারা সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই এলাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আশ্বাস দিয়ে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। পরে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারা সড়ক ছেড়ে দেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তত্ত্বাবধানে তাদের সাতরাস্তা মোড় অতিক্রম করানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তারা শ্রম ভবন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে গিয়ে নিজেদের দাবি উত্থাপন করবেন।
পুলিশের একটি দল পুরো সময় শ্রমিকদের সঙ্গে ছিল, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
বিজ্ঞাপন
শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন কাজ করার পর হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। বকেয়া পাওনা এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত পরিশোধের জন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহারের পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে কয়েক ঘণ্টার অবরোধের কারণে সৃষ্ট যানজট কাটতে কিছুটা সময় লাগে।








