ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল রাজধানী ঢাকা

রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (২২ জুন) রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য বাসা, অফিস ও বিভিন্ন ভবন থেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।
বিজ্ঞাপন
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪, যা মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঢাকাসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলায় এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। অনেকেই জানান, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভবনগুলো দুলে ওঠে এবং হঠাৎ কম্পনের কারণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন: চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কম্পনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও এটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে বহুতল ভবনে অবস্থানকারীরা ঝাঁকুনিটি বেশি অনুভব করেন। এ সময় অনেক পরিবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে খোলা জায়গায় অবস্থান নেয়।
এদিকে, ভূমিকম্পের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত, ভবন ধস কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থান করায় এ ধরনের মৃদু কম্পন সময়-সময় অনুভূত হতে পারে। তাই জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
তারা পরামর্শ দিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ভেতরে থাকলে জানালা, কাঁচ কিংবা ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে অবস্থান করা উচিত। এছাড়া কম্পন চলাকালে বা পরপরই লিফট ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সঠিক প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করণীয় সে বিষয়ে সবাইকে আগে থেকেই অবগত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মৃদু ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।








