Logo

চীনে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুন, ২০২৬, ১৭:৪৮
চীনে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

চীন সফরের ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট আলোইস জভিংগি।

আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ডেল্টা অঞ্চল বিশেষ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এসব দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী ডব্লিউইএফের জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত সংকটে আক্রান্ত দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশবান্ধব নানা পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের একটি বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, বন্যার ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে আলোইস জভিংগি বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি মনে করেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী এবং অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর আগ্রহ আকর্ষণ করবে।

ডব্লিউইএফ প্রধান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব ও উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন আলোইস জভিংগি। একইসঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতের একপর্যায়ে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট। বৈশ্বিক অর্থনীতি, জলবায়ু, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মিলনমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও জোরালো হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD