Logo

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশের মন’: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪০
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘বাংলাদেশের মন’: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ‘বাংলাদেশের মন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নজরুলের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে না হলেও তার চিন্তা, চেতনা ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এ দেশ। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষও জাতীয় কবিকে হৃদয়ের গভীরতম স্থানেই ধারণ করে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট ও ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর আনুষ্ঠানিক লোগোও উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের কবি নন; তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই তার সাহিত্য, দর্শন, জীবনবোধ ও মানবিক চেতনাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, ধর্মীয় সম্প্রীতি, প্রকৃতি, তারুণ্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে নজরুলের লেখনী আজও মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস। অন্যায়, বৈষম্য, শোষণ, কুসংস্কার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল এক অদম্য শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নজরুলের সৃষ্টিকর্মে অনন্য সৌন্দর্যে প্রতিফলিত হয়েছে। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং মানবমুক্তির যে বার্তা তিনি দিয়ে গেছেন, তা কখনও পুরোনো হবে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে নজরুল প্রথমবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জাতীয় কবির সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই বছরব্যাপী এ আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজনের ধরন নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও জনসম্পৃক্ত হওয়া উচিত ছিল। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তে যদি জেলা, উপজেলা ও বিভাগ পর্যায়ের নজরুল গবেষক, শিল্পী ও অনুরাগীদের ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হতো, তাহলে আয়োজনটি আরও অর্থবহ হয়ে উঠত।

বিজ্ঞাপন

তিনি মন্তব্য করেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যেমন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ত করা যৌক্তিক নয়, তেমনি নজরুলকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল গুরুত্ব পাওয়া উচিত সংস্কৃতি-সংশ্লিষ্ট মানুষদের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়ে মূল্যবোধনির্ভর সাহিত্য নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। নজরুলের শিশুতোষ কবিতা, দেশপ্রেম, সাম্য ও মানবতার বাণী আগামী দিনের সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, জাতীয় কবিকে নিয়ে আলোচনা কেবল সরকারি দপ্তর বা আনুষ্ঠানিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তার সাহিত্য, সংগীত, চিন্তা ও দর্শন সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠতে হবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বছরব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে সাহিত্য সম্মেলন, গবেষণা কার্যক্রম, সেমিনার, সাংস্কৃতিক উৎসব, নজরুলসংগীতের আসর, নাট্যোৎসব, প্রকাশনা ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি সারাদেশের নজরুল গবেষক, শিল্পী ও অনুরাগীদের সমন্বয়ে ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি জেলা, উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বছরব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এতে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের কাছেও নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই কাজী নজরুল ইসলামকে নানা বিশেষণে অভিহিত করেন। তবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যায়নে নজরুলই ‘বাংলাদেশের মন’।

তিনি নজরুলের ‘গাহি সাম্যের গান’ কবিতার উদ্ধৃতি টেনে বলেন, বিভেদ নয়, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানই বাংলাদেশের মানুষের চিরায়ত ঐতিহ্য। সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং মানবিক মূল্যবোধ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এতে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া নজরুল গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

শেষে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে এবং আরও বিস্তৃত পাঠক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে যাবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD