Logo

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত না করলে কঠোর শাস্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৮
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত না করলে কঠোর শাস্তি
ছবি: সংগৃহীত

পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সন্তানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’-এ পিতাকে সন্তানের জনক এবং মাতাকে সন্তানের গর্ভধারিণী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আইনে ভরণ-পোষণের মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সঙ্গ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে। একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে পালন করবে। পাশাপাশি পিতা-মাতার জন্য একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাদের সম্মতি ছাড়া বৃদ্ধনিবাস বা অন্য কোনো স্থানে থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সন্তানকে নিয়মিত পিতা-মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা-মাতা আলাদাভাবে বসবাস করলে সন্তানের দৈনিক বা মাসিক আয় থেকে যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ নিয়মিত দিতে হবে।

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, পিতার অনুপস্থিতিতে দাদা-দাদি এবং মাতার অনুপস্থিতিতে নানা-নানির ভরণ-পোষণের দায়িত্বও নাতি-নাতনির ওপর বর্তাবে। এ দায়িত্বও পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ৩ বা ৪ ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সন্তানের স্ত্রী, স্বামী, পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি পিতা-মাতা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির ভরণ-পোষণে বাধা দেন বা অসহযোগিতা করেন, তাহলে তাকেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে একই দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ বাংলাদেশের পারিবারিক মূল্যবোধ ও প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খালিদ হোসাইন।

তিনি বলেন, আইনের ৩ ধারায় প্রত্যেক সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধনিবাসে পাঠানো নিষিদ্ধ করে পারিবারিক বন্ধনকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অ্যাডভোকেট খালিদ আরও বলেন, ৫ ধারায় ১ লাখ টাকা জরিমানার বিধান দায়িত্বহীন সন্তানদের জন্য একটি কঠোর আইনি বার্তা। আর ৪ ধারার মাধ্যমে দাদা-দাদি ও নানা-নানির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নাতি-নাতনির ওপর অর্পণ করে তিন প্রজন্মের পারিবারিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

তিনি আরও ব লেন, আইনের ৮ ধারায় আপোষ-মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ আদালতের বাইরে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে, যা দেশের সামাজিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

এই আইনজীবী বলেন, ২০২৩ সালের বিধিমালায় ভরণ-পোষণ তহবিল এবং পরিচর্যাকেন্দ্র গঠনের বিধান যুক্ত হওয়ায় অসহায় প্রবীণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষ্য, এ আইন কেবল শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সন্তানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করতেই প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়লে পারিবারিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং প্রবীণরা তাদের প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা ও যত্ন লাভ করবেন।

সূত্র: বাসস

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD