Logo

জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা, সতর্ক করল পূর্বাভাস কেন্দ্র

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৪৫
জুলাই-আগস্টে দেশে বন্যার শঙ্কা, সতর্ক করল পূর্বাভাস কেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান জানান, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সবসময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা এবং উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, এ বছরও একই কারণে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালের মধ্যবর্তী সময়েই দেশে বড় বড় বন্যা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলে প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল।

এ ছাড়া ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক বন্যা টানা দুই মাসের বেশি স্থায়ী হয়েছিল। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় তিন কোটি মানুষ পানিবন্দি বা বাস্তুচ্যুত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ তৈরি হলে বন্যার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। ২০০৪ সালে এমন পরিস্থিতির কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় এবং শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের বড় বন্যায় মিলিয়ে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা উজানের অতিবৃষ্টিজনিত ঝুঁকির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।

সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা এখন প্লাবিত হলেও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। অন্যদিকে উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা অববাহিকার অবস্থাও স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কিছুটা কমলেও আগামী চার দিনে তা আবার বাড়তে পারে। পঞ্চম দিনে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে আশপাশের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদী সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে, ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD