Logo

আজ কাঁঠাল দিবস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০
আজ কাঁঠাল দিবস
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণের জন্য এর আলাদা কদর রয়েছে। কাঁঠালকে কেউ ভীষণ ভালোবাসেন, আবার কারও কাছে এর গন্ধই অসহ্য। এই দুই বিপরীত অনুভূতির কারণেই অন্য অনেক ফলের তুলনায় কাঁঠালের অবস্থান কিছুটা ব্যতিক্রম।

বিজ্ঞাপন

কাঁটায় ঘেরা বাহ্যিক আবরণের ভেতরে লুকিয়ে থাকা মিষ্টি স্বাদই কাঁঠালের আসল পরিচয়। একবার যাঁরা এই ফলের স্বাদে মুগ্ধ হন, তাঁদের কাছে এটি অন্যতম প্রিয় ফল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে অনেকেই এর তীব্র গন্ধের কারণে কাঁঠাল থেকে দূরে থাকেন। তাই কাঁঠালকে ঘিরে মানুষের পছন্দ-অপছন্দের ব্যবধান বেশ স্পষ্ট।

শুধু মৌসুমি ফল হিসেবেই নয়, কাঁঠাল দীর্ঘদিন ধরে বাংলার খাদ্যসংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বহু যুগ ধরেই এটি মানুষের খাদ্যতালিকায় স্থান করে নিয়েছে। কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে রান্না করা তরকারিকে অনেকেই ‘গরিবের মাংস’ বলে থাকেন। কারণ এর আঁশযুক্ত গঠন অনেকটা মাংসের মতো এবং এটি বেশ পুষ্টিকর।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে পাকা কাঁঠাল মিষ্টি স্বাদ ও স্বতন্ত্র সুবাসের জন্য পরিচিত। দেশীয় ফলের মধ্যে কাঁঠালে তুলনামূলক বেশি প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি এতে প্রচুর আঁশ, বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকায় এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবেও বিবেচিত।

সময়ের সঙ্গে কাঁঠালের ব্যবহারও অনেক বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের একটি প্রদর্শনীতে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের খাবার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। সেখানে কাঁঠালের বিরিয়ানি, কাবাব, কাটলেট, পাকোড়া, চিপস, ললিপপ, শাশলিক, কেক, হালুয়া, নকশি পিঠা, পাটিসাপটা, রুটি, পেস্ট্রি ও আরও বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রদর্শন করা হয়।

এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে, কাঁঠালকে ঘিরে খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার এখনও উন্মুক্ত। যথাযথ গবেষণা ও উদ্যোগ নেওয়া গেলে জাতীয় ফলের বহুমুখী ব্যবহার আরও বাড়ানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

উৎপাদনের ক্ষেত্রেও কাঁঠালের গুরুত্ব অনেক। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। এ তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়েছে।

কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের মতে, কাঁঠালকে জাতীয় ফল হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে একাধিক যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি কাঁঠাল চেনেন না। দেশের প্রায় সব এলাকাতেই কাঁঠাল জন্মায়। সহজলভ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং এই অঞ্চলের নিজস্ব ফল হওয়ার কারণেই কাঁঠাল জাতীয় ফলের মর্যাদা পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফল কাঁঠাল। উদ্ভিদবিদদের মতে, ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালাই কাঁঠালের আদি নিবাস। এখনও সেখানে বুনো কাঁঠাল জন্মায়। এছাড়া ভারতের কেরালা ও তামিলনাড়ুর রাজ্যফলও কাঁঠাল।

আজ ৪ জুলাই, কাঁঠাল দিবস। জাতীয় ফলের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরা এবং উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য হিসেবে এর সম্ভাবনা আরও জনপ্রিয় করে তুলতেই এই দিবস পালন করা হয়। ২০১৬ সালে দিবসটির প্রচলন হলেও এর সূচনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি জানা যায় না।

দিবসটির মূল বার্তা একটাই—জাতীয় ফল কাঁঠালকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা। তাই আজ সুযোগ থাকলে পাকা কাঁঠালের স্বাদ উপভোগ করুন কিংবা কাঁঠাল দিয়ে তৈরি নতুন কোনো খাবার রান্না করে পরিচিত এই ফলকে নতুনভাবে আবিষ্কারের চেষ্টা করুন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: ডেজ অব দ্য ইয়ার ও বাংলাপিডিয়া

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD