Logo

ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩:১৩
ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিতব্য দুটি ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ পরিদর্শনকে ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। চলছে নানা প্রস্তুতি। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এ পরিদর্শনকে মিলনমেলার সঙ্গে তুলনা করছেন।

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ান পরিবারকে উচ্ছ্বসিত করেছে। এ সফরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের মতে, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠান নানা সংকটেও নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের আরও উৎসাহিত করবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতিও তাদের কাছে বিশেষ আনন্দের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের অবদান অবিস্মরণীয়।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রিয় ক্যাম্পাসে আসছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন ও আনন্দের।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ সুপরিকল্পিত ও আধুনিক। ঢাকা মেডিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান বলেন, আগামী ১১ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব, আবেগ ও নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসবে। এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ২০০১-০২ সালে ঢামেকসুর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মস্পৃহা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. বাদশা বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, প্রতিটি জাতীয় সংকট, দুর্যোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানবিক বিপর্যয়ে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদলের একজন সাবেক কর্মী ও এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণীর ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক, মানবিক ও জনমুখী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

এমবিবিএস কোর্সের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিবুল হাসান বলেন, নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে পারবেন। তাদের বিশ্বাস, এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম শীর্ষ সরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস ডিগ্রির পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: বাসস

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD