Logo

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩০
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই এবং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে। এই কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নদী ও খালের তীর, সড়কের পাশ, খাসজমি এবং অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সবুজায়নও বাড়বে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বৃক্ষ শুধু পরিবেশকে শীতল রাখে না, এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, মাটির ক্ষয়রোধ, বায়ুদূষণ কমানো এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

একদিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে সড়কপথে বরিশালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের সরকারি বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বরিশালে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বরিশাল সফর হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখনন করা সরিকল-বাটাজোর খালের তীরে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে যুক্ত হওয়া এ কর্মসূচিতে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের মতামত শোনেন।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে তিনি বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাশে দ্বিতীয় দফার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে নিজ হাতে বরিশালের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃত আমড়া গাছ এবং নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় শতাধিক দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকা এবং সাগরদী খালপাড়েও পৃথকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সবুজায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছ রোপণ করা হবে।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দলীয়ভাবে ব্যানার, ফেস্টুন বা তোরণ নির্মাণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে মানবপ্রাচীর গড়ে তাকে শুভেচ্ছা জানানোর আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে সব আয়োজন সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে, যাতে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সফরকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সার্বিক সমন্বয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর একযোগে কাজ করছে। শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট নানা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, বরিশালের অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, নদী ও খাল পুনরুদ্ধার এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের ঘোষিত ২৫ কোটি গাছ রোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের সবুজায়নে এটি একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD