Logo

দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন সম্ভব: ফরাসউদ্দিন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৪৪
দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন সম্ভব: ফরাসউদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে দলীয় সরকারের অধীনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মঞ্জুর এলাহী মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক বক্তব্যে ফরাসউদ্দিন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও দলীয় সরকারের অধীনেই নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব, যদি নির্বাচন কমিশন কার্যকর ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয় এবং সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তন আনা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সাংবিধানিক পথ তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই গভর্নর বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলেও রাজনৈতিকভাবে সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে মনে করেছিলেন, ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট হয় সরকার গঠন করত, নয়তো শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করত। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তখন নষ্ট হয়ে যায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি মূলত রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থার প্রতিফলন এবং একটি আমলাতান্ত্রিক কাঠামো। তার মতে, নির্বাচনের ৯০ দিন আগে দলীয় সরকারকে সীমিত পরিসরে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রেখে নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে পরিচালনা করা যেতে পারে। সে সময়ে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ও প্রটোকল স্থগিত রাখা এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে ফরাসউদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি দেশের রাজনীতিকে অযথা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। তার মতে, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমানের দেওয়া ঘোষণার মধ্যেই এ বিতর্কের একটি সমাধান নিহিত রয়েছে।

বক্তৃতায় তিনি এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তার দাবি, সে সময় সংস্কারের নামে আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছিল, যা জিল্লুর রহমান ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কারণে সফল হয়নি। একইভাবে বিএনপিতেও সংস্কারের নামে খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, দেশে আয়, সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য বেড়েছে। এর ফলে অর্থনীতির গতি কমেছে। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত আট শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহও কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক সোহরাব হাসান, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ফকরুল আলম এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD