Logo

চাকরিতে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিও শিক্ষকরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৯
চাকরিতে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিও শিক্ষকরা
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের প্রস্তাব কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাদের আগে সংশ্লিষ্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত বিদ্যমান কয়েকটি আইনে সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব সংশোধনী সরকারের অনুমোদন পেলে দেশের প্রায় সাত লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য নতুন এই বিধান প্রযোজ্য হবে।

ইসি ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর অক্টোবরের প্রথমার্ধ থেকে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পরে পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৩(১) ধারা, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ১৯(ঙ) ধারা, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৯(ঙ) ধারা, উপজেলা পরিষদ আইনের ৮(ঙ) ধারা এবং জেলা পরিষদ আইনের ৬(ঙ) ধারায় সংশোধনী আনার সুপারিশ করা হবে।

সংশোধনীতে নতুন করে এমন একটি বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে উল্লেখ থাকবে—প্রজাতন্ত্রের কর্মে, কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের অধীনে লাভজনক পদে কিংবা কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক পদে কর্মরত ব্যক্তি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না।

বিজ্ঞাপন

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে বহাল থেকে কোনো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ বা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারায় একই ধরনের বিধান রয়েছে।

ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সময়ে একাধিক চাকরি, পদ বা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারবেন না। যদি কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করেন এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার এমপিও সুবিধা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নীতিমালায় আরও উল্লেখ রয়েছে, আর্থিকভাবে লাভজনক পদ বলতে শুধু সরকারি বেতন-ভাতা নয়; বরং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা কিংবা আইন পেশা থেকে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা সম্মানিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধনীর প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সাধারণত প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক নিজেই যদি নির্বাচনে প্রার্থী হন, তাহলে একই প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষকদের নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেন। ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন’-এর ‘সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট’ এবং ‘মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’ বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষকরা যাতে নির্বাচনে অংশ না নেন, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষক যদি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হন, তাহলে তার আগে চাকরি থেকে সরে দাঁড়ানোই যুক্তিসংগত হবে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম এবং নির্বাচনী দায়িত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সহজ হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে সরকারের অনুমোদন এবং আইনি সংশোধন সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এর ফলে ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে সংশ্লিষ্টদের চাকরি ছাড়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD