এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণে অর্থায়নের নতুন দিগন্ত, বৈঠকে আশাবাদ

রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে আধুনিক, দ্রুতগামী ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে 'ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে' প্রকল্প। যোগাযোগ খাতের এই মেগা প্রকল্পটি ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন ও সড়ক পথের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এর শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর জনিত আইনি জটিলতার কারণে সিঙ্গাপুরে আরবিট্রেশন চলমান রয়েছে। ফলে বিগত দুই বছরেরও বেশিসময় ধরে প্রকল্পটিতে অর্থায়নকারী দুটি চীনা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি ছাড় বন্ধ ছিল। এই আর্থিক সংকট সত্ত্বেও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়।
এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের আর্থিক প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শ্যানডং প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আজ সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক চীনা প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাঁদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকাবাসী ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের আংশিক সুফল পেতে শুরু করেছে এবং বাকি অংশের নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এক্সপ্রেসওয়েটি আংশিক চালুর পর থেকেই প্রত্যাশার চেয়েও বেশি যানবাহন চলাচল করছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পুরো এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে বিনিয়োগকৃত অর্থ সহজেই তুলে আনা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত এই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছেন এবং উক্ত এক্সপ্রেসওয়েসহ সমগ্র বাংলাদেশে একটি অভিন্ন ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ সিস্টেম চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দ্রুততম সময়ে ইটিসি চালুর লক্ষ্যে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম এস আকতার এবং চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ।
এছাড়া, গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) এর মাধ্যমে উচ্চমানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
বিজ্ঞাপন
জাপান সরকারের পক্ষে সভায় নেতৃত্ব দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা। জাপান সরকারের এম আই এল এর টি এর এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাপানি বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিক চৌধুরী।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ ভোলা-লক্ষ্মীপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের বিষয়ে সভায় উপস্থাপন করেন। জাপান প্রতিনিধি দলটি প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে এবং দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কৌশলগত গুরুত্বের স্বীকৃতি প্রদান করে।
সভায় বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশ কৌশলগত যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাংলাদেশ-জাপান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসু করার বিষয়ে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।








