সরকার গঠনের পর কিছুই বদলায়নি, চলছে ঘুষ-দুর্নীতি: মির্জা ফখরুল

জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও আত্মত্যাগকে ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা হয়ে গেছে। যারা ভোল পাল্টিয়েছে তারা এখন বেশি অপকর্মে লিপ্ত। সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে সমাজের কিছুই বদলায়নি, আগের মতোই ঘুষ-দুর্নীতি চলছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর তথ্য ভবনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম আগের মতোই বিদ্যমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবর্তন বলতে কেবল তারেক রহমান, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। সেই উদ্যোগ সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সব মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনমান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হয়নি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি হয় এবং এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জুলাই আন্দোলনে তরুণরা আত্মত্যাগ করেছেন।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষায়, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের মূল্য দিতে হলে সেই আন্দোলনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। যদি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন না আসে, তাহলে আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সুশাসন, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এজন্য শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারও প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের অবদান তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই আন্দোলনের নাম বা চেতনাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার কিংবা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের ব্যবসার হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। তিনি সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।








