সরকারি চাকরিতে এখন কত শতাংশ কোটা আছে?

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা, বিতর্ক ও আন্দোলন চলে আসছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর বিষয়টি নতুন করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কোন কোন কোটা বহাল রয়েছে, কত শতাংশ কোটা কার্যকর এবং কোন ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে এখনও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মোট ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ নিয়োগ সংরক্ষিত কোটায় দেওয়া হচ্ছে। এই ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে।
এই কোটা কাঠামো ২০২৪ সালের ২১ জুলাই আপিল বিভাগের রায়ের পর নির্ধারিত হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ জুলাই এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে সরকারি নিয়োগে সেই গেজেট অনুসারেই কোটা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
বিজ্ঞাপন
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এর আগে ২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের এক রায়ে আগের কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা এলে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি ছিল কোটা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা নয়, বরং যৌক্তিক সংস্কার করা।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে আন্দোলন, সংঘর্ষ, প্রাণহানি, কারফিউ এবং নানা অস্থিরতার মধ্যেই ২১ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে নতুন কোটা কাঠামো নির্ধারণ করে দেয়।
বিজ্ঞাপন
এখন কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরির ৯৩ শতাংশ পদে মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ৭ শতাংশ পদ নির্ধারিত তিনটি কোটার জন্য সংরক্ষিত থাকে।
এছাড়া কোনো কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই শূন্য পদ মেধা তালিকা থেকে পূরণের নির্দেশনাও রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে সরকার আদালতের নির্ধারিত কোটা সংশোধন, সংস্কার বা বাতিল করার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের অবস্থান
চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ নিয়োগ সংরক্ষিত কোটায় দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ীই সব নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে এই সাত শতাংশ কোটা ছাড়া অতিরিক্ত কোনো কোটা কার্যকর নেই।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের কোটা ব্যবস্থার ইতিহাস
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা চালু হয়। সে সময় জেলা, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের অন্তর্ভুক্ত করে কোটা কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়।
২০১৮ সালে সরকার কোটা ব্যবস্থা বাতিল করলেও ২০২৪ সালে আদালতের রায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পরবর্তী আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়। বর্তমানে জেলা কোটা, নারী কোটা এবং মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের জন্য আলাদা কোনো কোটা আর নেই।
বিজ্ঞাপন
তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা








