পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নামে অপতৎপরতা, তদন্তের দাবি বৈধ কমিটির

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান গঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও স্বীকৃত কমিটির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক স্বঘোষিত ও অননুমোদিত কমিটির পরিচয় ব্যবহার করে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিজ্ঞাপন
এই কর্মকাণ্ডে জড়িতরা হলেন, পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. আলমগীর জাহান, পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. ইমাউল হক, পিপিএম, পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. শফিকুল ইসলাম রাজা এবং পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. হাসানুজ্জামানসহ তাদের সহযোগীরা স্বঘোষিত ও অননুমোদিত কমিটির পরিচয় ব্যবহার করে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র অনুসারে, তারা বৈধ কমিটির কোনো অনুমোদন ছাড়াই সংগঠনের নাম, পদবি ও সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করে সারা দেশে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করছেন। এছাড়া বিভেদ সৃষ্টি, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত ব্যক্তিরা সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একই সঙ্গে পুলিশের কর্মকর্তা, সদস্য ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান ও পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্যের নিরাপত্তা, সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা এবং বাহিনীর পেশাগত শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তাদের এসব কার্যক্রম পুলিশ বাহিনীর মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টার শামিল বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান গঠনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও স্বীকৃত কমিটিই সংগঠনের একমাত্র বৈধ ও কার্যকর কমিটি। এই কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংগঠনের নাম, অফিসিয়াল প্যাড, পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার কিংবা প্রতিনিধিত্ব করার কোনো আইনগত বা সাংগঠনিক এখতিয়ার নেই।
অতএব, উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্বঘোষিত কমিটির পরিচয় ব্যবহার, সংগঠনের নাম ও পরিচয়ের অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ, বাহিনীতে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং তথ্য পাচারসহ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগসমূহ যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন








