Logo

গ্যাস সংকটে বন্ধ শিল্পকারখানা, বাড়ির পথে শত শত শ্রমিক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৩৬
গ্যাস সংকটে বন্ধ শিল্পকারখানা, বাড়ির পথে শত শত শ্রমিক
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে। সীমিত গ্যাস সরবরাহের কারণে জেলার প্রায় ২০ শতাংশ শিল্পকারখানায় সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ ছুটিতে শত শত পোশাকশ্রমিক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিকরা অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ পেলেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিল্পাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। কোথাও উৎপাদন লাইন কমিয়ে, কোথাও রাতের শিফটে কাজ বাড়িয়ে কিংবা কিছু মেশিন বন্ধ রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছিল। তবে সংকট আরও তীব্র হওয়ায় এবার অনেক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখে টানা ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চার দিনের ছুটি ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া ও আশপাশের পরিবহন কাউন্টারগুলোতে শ্রমিকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী বাসগুলোতে যাত্রীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

চন্দ্রা এলাকায় গোমতী টেক্সটাইলের শ্রমিক কফিল উদ্দিন বলেন, কাজ না থাকলে কারখানায় বসে থাকার চেয়ে কয়েক দিনের জন্য পরিবারের কাছে যাওয়া ভালো। তবে তিনি দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসন করে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন চালুর প্রত্যাশা জানান।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, জেলার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে অনেক শ্রমিক নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে মঙ্গলবার রাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বুধবার সকালেও চন্দ্রা এলাকায় থেমে থেমে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, যেসব কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠান সীমিত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

গাজীপুর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে হাজার হাজার তৈরি পোশাক, স্পিনিং, টেক্সটাইল, ডাইং, ওয়াশিং, ওষুধ, প্লাস্টিক, সিরামিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা পরিচালিত হচ্ছে। এসব শিল্পের একটি বড় অংশ গ্যাসনির্ভর হওয়ায় সংকটের প্রভাবও বেশি পড়ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থাও কমতে পারে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা না গেলে ভবিষ্যতে রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ।

তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর এবং টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে কোনাবাড়ী এলাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তাপস পাল বলেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD