Logo

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪
জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।

সোমবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকা ছাড়ে। প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রা শেষে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের ট্রানজিট শেষে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে ফ্লাইটটি। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁর সেখানে পৌঁছানোর কথা।

জেএফকে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা করে তাঁকে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই অবস্থান করবেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন তিনি। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কার্যক্রমে যোগ দেবেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একই দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি। সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হবে।

জলবায়ু বিষয়ক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বাংলাদেশ আয়োজিত মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেবেন তিনি।

ইউএনজিএর ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বিনিয়োগ, অর্থনীতি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

জাতিসংঘে এবারের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বর্তমান সরকারের এটি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক ফোরামে প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD