বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ জেলের নাম

বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারাগার ব্যবস্থাকে শুধু বন্দি আটক রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশোধন ও পুনর্বাসনমুখী করার লক্ষ্যেই নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক ঘটনা এবং কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘Custodial and Correction Service Bangladesh’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাগারের মূল দর্শনকে আরও সংশোধন, পুনর্বাসন ও মানবিক সেবাকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনি কাঠামোও আধুনিক করার উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন
মোতাহের হোসেন বলেন, বর্তমান সময়ের প্রয়োজন এবং আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধান যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ লক্ষ্যে ‘Custodial and Correction Service Act-2025’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। সেটি অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কারা বিভাগের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারাগারগুলোতে বন্দিদের মানসিক ও সামাজিকভাবে পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।
খেলাধুলা ও কাউন্সেলিংয়ে গুরুত্ব
বিজ্ঞাপন
কারা মহাপরিদর্শকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো বন্দিদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন তৈরি করা এবং কারাগার থেকে বের হওয়ার পর সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুত করা।
এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্দিদের যোগাযোগ আরও সহজ করতে ভিডিও কলের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এর ফলে বন্দিরা সরাসরি সাক্ষাতের পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
কারাগারের নিরাপত্তায় বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার
কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কারাগারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে বডি ক্যামেরা, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, মোবাইল ডিটেক্টর এবং মোবাইল জ্যামিং সিস্টেম ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ওপর নজরদারি বাড়াতেও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম এবং টিম ট্র্যাকার চালু করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক কারা ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্য
মোতাহের হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে কারা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কারা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, মানবিক, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নামকরণের উদ্যোগও সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ। অর্থাৎ কারাগারের ভূমিকা শুধু বন্দিদের নিরাপদে আটকে রাখা নয়; বরং তাদের সংশোধন, মানসিক উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তুতিও কারা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
কারা মহাপরিদর্শকের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন নাম ও আইন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কারা ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তার পাশাপাশি সংশোধন ও পুনর্বাসনমূলক সেবার গুরুত্ব আরও বাড়বে।








