প্রতিটি বিভাগে ‘মডেল খাল’ করবে সরকার

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি বিভাগে ‘মডেল খাল’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আগামী বছর পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ২০টি খালকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পে শুধু পানি নিষ্কাশন বা সংরক্ষণ নয়, খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ, মাছ চাষ ও হাঁস পালনের মতো কার্যক্রমও যুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে পানি সম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। চলতি বছর দেশের সব উপজেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে প্রাথমিক তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত খালগুলোর যাচাই-বাছাই শেষে অক্টোবরের মধ্যে প্রতিটির প্রাক্কলন প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর বরাদ্দ দিয়ে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। শুষ্ক মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ খননকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত বছর তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য ছিল। আগাম বৃষ্টি ও দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্বের কারণে পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব না হলেও প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এবার মডেল খালের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০০টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তবে যাচাই-বাছাইয়ের পর সেখান থেকে ২০টি খাল নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি বিভাগ থেকে মডেল খাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পকে পাইলট স্কিম হিসেবে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মডেল খালের ধারণা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শুধু পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে খাল খনন করলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। খালকে গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এর পাড়ে গাছ লাগানো, মাছ চাষ ও হাঁস পালনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি ধরে রেখে তা কৃষিকাজে সেচ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়তে পারে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, খননকাজে স্থানীয় শ্রমিকদের যুক্ত করা হলে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহও বাড়বে। তার মতে, এই কর্মসূচির প্রভাব কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
বিজ্ঞাপন
খাল খননের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। তখন কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার মাধ্যমে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন কর্মসূচি বন্ধ থাকায় অনেক খাল ভরাট হয়ে যায় এবং নাব্যতা হারায়।
মন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি দ্রুত সরিয়ে কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার কারণে যেসব এলাকায় কৃষক সময়মতো চাষাবাদ করতে পারেন না, সেখানে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের সব অঞ্চলের জন্য সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও জানান দুর্যোগমন্ত্রী। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্য দূর করে দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।








