Logo

চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস, নগরজুড়ে উৎসব

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৮
চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস, নগরজুড়ে উৎসব
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ৫৫তম ঐতিহাসিক জশনে জুলুস। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার কাছে আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তার সঙ্গে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ।

আয়োজকদের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জুলুসটি মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। পরে এটি জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই চট্টগ্রাম নগর, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। কেউ বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে, আবার অনেকে পায়ে হেঁটে ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় জড়ো হন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের জুলুসে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। তাদের ভাষ্য, শান্তি, মানবতা, অহিংসা এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও মোড় সাজানো হয়েছে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায়। ষোলশহর, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন আকৃতির তোরণ।

জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার জন্য মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে আনজুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাইব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন উপলক্ষে জশনে জুলুস আয়োজন সুন্নত ও সওয়াবের কাজ। তার দাবি, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক আশেকে রাসুল আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে এতে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, একশ্রেণির মানুষ এই আয়োজনের বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাসুল (সা.)-এর জন্মের আনন্দে আয়োজিত এই শোভাযাত্রার বিরোধিতা করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জশনে জুলুসের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর চট্টগ্রামের এই আয়োজনে ধর্মীয় ও তরিকতভিত্তিক পরিবেশ বজায় রেখে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পেয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.)-এর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচি হয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বড় ধরনের জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD