Logo

মহানবী (সা.)-এর আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১:৩৬
মহানবী (সা.)-এর আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি: সংগৃহীত

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে এবং ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের দেশ। এ দেশের মানুষ যুগের পর যুগ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহানবী (সা.) বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের সমন্বয়ে যে সমাজব্যবস্থা, পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, জাতীয় জীবনেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে সামনে রেখে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে জাতীয় জীবনের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের এই ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেন। পাশাপাশি চারটি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

তার শাসনামলে ইমামদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট। এসব উদ্যোগের ফলে মসজিদ, ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষা এবং ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০৩০ সালের আগেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে।

বিজ্ঞাপন

আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের পথপ্রদর্শক। মসজিদের মিম্বর থেকে তারা কোটি মানুষের কাছে সত্য, ন্যায়, সততা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার বার্তা পৌঁছে দেন। তাই সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, গুজব, হিংসা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অসহিষ্ণুতা দূর করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ তরুণদের সামনে তুলে ধরতে হবে।

সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দেশ ও জাতিকে সব ধরনের অনিষ্ট, বিভেদ ও অশান্তি থেকে রক্ষা এবং বাংলাদেশকে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রার্থনা জানান তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD