Logo

ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না আট শ্রেণির মানুষ, নীতিমালা জারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:২০
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না আট শ্রেণির মানুষ, নীতিমালা জারি
ছবি: সংগৃহীত

দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। নতুন এই নীতিমালায় কারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না, তা স্পষ্ট করে একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালার মাধ্যমে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দেশের অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি নারী পরিবার প্রধানকে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

যে আট ধরনের পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না

বিজ্ঞাপন

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের যেকোনো একটি থাকলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবে।

১. নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের বেশি হলে:

সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার এ সুবিধা পাবে না।

বিজ্ঞাপন

২. নারী পরিবার প্রধান নিয়মিত সরকারি বেতন পেলে:

মনোনীত নারী পরিবার প্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকবেন না। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

৩. নিয়মিত সরকারি পেনশন গ্রহণ করলে:

বিজ্ঞাপন

মনোনীত নারী প্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা পেলে তিনি এই কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন পাওয়া ব্যক্তি এই শর্তের বাইরে থাকবেন।

৪. ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয় বা বিনিয়োগ থাকলে:

পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে পরিবারটি বাদ পড়বে। একইভাবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও ফ্যামিলি কার্ড মিলবে না।

বিজ্ঞাপন

৫. নির্দিষ্ট ধরনের মোটরযান থাকলে:

পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে কার্ড দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।

৬. বড় বাণিজ্যিক ব্যবসা থাকলে:

বিজ্ঞাপন

পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্সসহ ব্যবসা থাকলে তিনি এই সুবিধার জন্য বিবেচিত হবেন না।

৭. করযোগ্য আয়সহ নিয়মিত করদাতা হলে:

পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য হবে না।

বিজ্ঞাপন

৮. নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি বা মূল্যবান অকৃষি সম্পদ থাকলে:

বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

এক পরিবারের জন্য থাকবে একটিই ওয়ান-আইডি

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি যোগ্য পরিবারকে একটি স্থায়ী ও অনন্য পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। ‘ওয়ান-আইডি’ নামে এই নম্বর ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কেন্দ্রীয় পরিচিতি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এটি শুধু একটি পরিচয় নম্বর হিসেবে কাজ করবে না; রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামোর অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে। যথাযথ অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে।

একসঙ্গে একাধিক একই ধরনের সরকারি সুবিধা নয়

বিজ্ঞাপন

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা পাওয়া নারী পরিবার প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক, খাদ্য বা অন্য সুবিধা নিতে পারবেন না।

কেউ যদি আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কিংবা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাই করে আগের সুবিধা বাতিল বা স্থগিত করা হবে।

একই নিয়ম বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা অনুরূপ সরকারি নগদ সহায়তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে মনোনীত নারী পরিবার প্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়ম মেনে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

এনআইডি থেকে ভূমি ও ব্যাংক—সব তথ্য হবে যাচাই

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করা পরিবারের তথ্য যাচাইয়ে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগের সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি এমআইএস এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের তথ্য যাচাই করা হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার ভবিষ্যতে এই তথ্যভান্ডারের পরিধি কিংবা এপিআই সংযোগের আওতা পরিবর্তন করতে পারবে।

জালিয়াতি শনাক্তে ব্যবহার করা যাবে এআই

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে। ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে থাকা তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি বা জালিয়াতি শনাক্ত করতে প্রয়োজনে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে।

এর ফলে আবেদনকারীর আয়, সঞ্চয়, জমি, যানবাহন, কর প্রদান কিংবা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা নেওয়ার তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে তা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকার গঠনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও ফলাফলের ভিত্তিতেই এবার বড় পরিসরে বাস্তবায়নের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় একদিকে প্রায় ২ কোটি নারী পরিবার প্রধানকে জিটুপি পদ্ধতিতে নগদ সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করা, একই ব্যক্তির একাধিক সমজাতীয় সুবিধা গ্রহণ বন্ধ করা এবং আয়-সম্পদ যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD