Logo

এমপিদের নম্বর হ্যাক, জরুরি টাকা চেয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:২০
এমপিদের নম্বর হ্যাক, জরুরি টাকা চেয়ে প্রতারণার নতুন কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

‘জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান’, ‘৩০ হাজার টাকা পাঠান’—এ ধরনের বার্তা পাঠিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যদের নম্বর হ্যাক করে প্রতারণা করা হচ্ছে। মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ হ্যাকিংয়ের পাশাপাশি ভয়েস ক্লোন এবং স্বাক্ষর জাল করেও প্রতারণার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে মোবাইল ফোনে… আমি কালকে এখানে পেয়েছি, আমাকে তিনজন সংসদ সদস্য বলেছেন জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনটা নম্বর থেকে এসেছে। যাদের নম্বর থেকে এসেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কল করেছিলাম কিন্তু ধরেননি। মানে মোবাইল (নম্বর) হ্যাক হয়েছে।’

সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি আপনারা জানলে সারা বাংলা জানবে বলে মনে করি। টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ জানুক।’

বিজ্ঞাপন

শুধু মোবাইল নম্বর হ্যাক করেই নয়, ভয়েস ক্লোন এবং জাল নথি ব্যবহার করেও প্রতারণা করা হচ্ছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে কাজটা করছে, কিছু কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে একটি কাগজ হাজির করছে, সেটাও সমস্যা হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যদের হয়েছে, সরকার দলের সদস্যদেরও হয়েছে।’

এ ধরনের প্রতারণা থেকে সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের বলে মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি চিফ হুইপের উদ্দেশে বলেন, ‘বিষয়টি যখন উঠালেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে কিছু বলবেন না? ক্লোন হয় না হয়, সেটা তো ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাদের হচ্ছে, তারা তো সেটার জন্য দায়ী নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের, নির্বাহী বিভাগ বা রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে বলার থাকলে বলেন।’

জবাবে চিফ হুইপ জানান, বিষয়টি নিয়ে আগের দিনই আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গতকালই (বুধবার) কথা হয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা বিটিআরসি শুরু করেছে। যাতে এ সমস্যার সমাধান করতে পারি।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদ ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, সংসদের সব লবিতে ফেস রিডিং ডিভাইস রয়েছে। তবে অনেক সংসদ সদস্য নিয়মিতভাবে এতে ফেস রিডিং করছেন না।

চিফ হুইপ বলেন, প্রায় ১২০ থেকে ১২২ জন সদস্য ফেস রিডিং করেন না বলে সংসদ থেকে তাকে জানানো হয়েছে। তাই সংসদ সদস্যদের সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় ফেস রিডিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আজ সংসদ থেকে বের হওয়ার সময় সব সদস্যকে যেন ফেস রিডিং করে যেতে বলা হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD