সমাজের পচন বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সমাজের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় বহু বছর ধরে শুরু হয়েছে এবং এর বিভিন্ন লক্ষণ এখন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমাজের সব সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এতে সারাদেশের মানুষ মর্মাহত। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধার এবং এর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বয়স নিহত কিশোরের চেয়ে কয়েক বছর বেশি। তদন্তে তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয় ও ওঠাবসার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশ্লেষণও চলছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধারে পুলিশ সক্ষম হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দাফনও করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও দ্রুত শেষ হবে। মামলার আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অপরাধের কারণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মাদক ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা অপরাধপ্রবণতার সঙ্গে যুক্ত থাকে। এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় মোটিভেশনাল কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে সঠিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সমাজের দীর্ঘদিনের পচন ও নৈতিক অবক্ষয় মোকাবিলায় সরকার ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সেটির বিচার হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। দায়িত্ব গ্রহণের পর জঘন্য অপরাধগুলোর দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে এবং যেসব মামলার তদন্তে বেশি সময় প্রয়োজন হচ্ছে, সেগুলোর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।








