Logo

জামায়াতের লংমার্চ নিয়ে পুলিশের পোস্ট, কর্মকর্তা প্রত্যাহার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৩২
জামায়াতের লংমার্চ নিয়ে পুলিশের পোস্ট, কর্মকর্তা প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ’ ও গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পোস্টটি নিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার পর সেটি সংশোধন করে পরে মুছে ফেলা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। তিনি দীর্ঘদিন জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

জিএমপি সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং সভাস্থলের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লংমার্চ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। এতে লংমার্চের গন্তব্য ও দাবির পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি এবং পুলিশের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার তথ্য তুলে ধরা হয়।

পোস্টে বলা হয়, লংমার্চটি আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে জিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে। পরে সকাল ১০টার দিকে ভোগরা বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চটি চলে যায়। এতে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া লংমার্চের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপপুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার ও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন বলে পোস্টে জানানো হয়।

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে পোস্টটির সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টটি প্রথমে সংশোধন করা হয়। পরে সেটি পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়। এরপর পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি তাকে শোকজ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দায়ী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD