পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে দিতে হবে দণ্ড ফি

হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত ফির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে জারি করা পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষর করেছেন। পরিপত্রটি প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সরকার বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার কথা জানিয়ে পুনঃইস্যুর আবেদন করছেন। পাসপোর্ট সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার পর দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় বিষয়টি জানাতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না পাওয়া গেলেও জিডির কপি সংযুক্ত করে পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি দেখা যায়, ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে এবং তা দ্রুত উদ্ধার সম্ভব নয়, তাহলে আগের পাসপোর্ট ‘Revoke’ করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া যাবে।
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের Immigration Management System (IMS) হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকে অবহিত করাসহ বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘Lost Circular’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
বিজ্ঞাপন
নতুন পাসপোর্টের ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের ‘Lost/Revoked’ অবস্থা হালনাগাদ করতে হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নামের মতো মৌলিক পরিচয়গত তথ্য সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।
আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্তের মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
হারানো বা চুরি হয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর পাসপোর্ট ‘Revoke’ করা হলে সেটি পরে পাওয়া গেলেও আর সক্রিয় করা বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। পাসপোর্টটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত থানায় এবং নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থায় জানাতে হবে। বিদেশে থাকলে বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
নতুন পরিপত্রে আগের হারানো, চুরি বা বিনষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করা হয়েছে।








