কক্সবাজারের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালে শুরু হলো ফ্লাইট চলাচল

কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের আধুনিক টার্মিনালটি ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
নতুন টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রীসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পর্যটকদের মধ্যে নতুন অবকাঠামো নিয়ে সন্তোষ দেখা গেছে।
কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা কয়েকজন যাত্রী জানান, নতুন টার্মিনালের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ। লাগেজ সংগ্রহেও হয়রানি কমেছে। বসার জায়গা, ফ্রেশ রুমসহ বিভিন্ন সুবিধায় তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
দেশীয় বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোও নতুন টার্মিনালের সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেছে। ইউএস-বাংলার স্টেশন ম্যানেজার মোসা আহমেদ বলেন, প্রস্থান ও আগমন হল দুটিই বেশ প্রশস্ত। পাশাপাশি বোর্ডিং লাউঞ্জও বড় ও সুন্দর। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সুবিধাই এখানে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নভোএয়ারের স্টেশন ম্যানেজার সারওয়ার উল কাদের বলেন, নতুন টার্মিনালে ব্যাগেজ বেল্টের সুবিধা রয়েছে এবং পুরো এলাকাটিই আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত। ফলে যাত্রীদের গাদাগাদি করে অবস্থানের যে সমস্যা ছিল, তা অনেকটাই কমেছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। যাত্রী হয়রানি রোধ এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের এপিবিএন সদস্যরাও রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার কাজে যুক্ত আছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬টি বিভাগ বা সংস্থা একযোগে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, নবনির্মিত টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী অক্টোবরে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগেই সোমবার থেকে টার্মিনালটি ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ও রানওয়ে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।








