বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে আনসারের উপপরিচালককে বাধ্যতামূলক অবসর

অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক জে এম ইমরানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাঙ্গামাটির লংগদু আনসার ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিএন)-এর উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জে এম ইমরান জামালপুর জেলা কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা সমাবেশে বক্তব্য দেন। ওই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৩০০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জেলা সমাবেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ইমরান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রভাববলয় থেকে মুক্ত করার বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বক্তব্যের কারণে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিরোধ তৈরির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার রহিতকরণ ও অসামরিকীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বাস্তবতাবিবর্জিত এবং ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ আনা হয়। এসব কর্মকাণ্ডকে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩ জুন জে এম ইমরানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। লিখিত জবাবের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ চান। পরে ৯ জুলাই তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরপর একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। চাকরি থেকে বরখাস্ত কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। এর জবাবও দেন জে এম ইমরান।
পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় মামলার নথি পর্যালোচনা করে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২২ জুন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। ১৩ আগস্ট পিএসসি ওই গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে।
বিজ্ঞাপন
এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার বিধান অনুসরণ করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেয়।
সবশেষে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী জে এম ইমরানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার গুরুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।








