Logo

সহজলভ্য হওয়ায় মাদকে অল্প বয়সেই ঝুঁকছেন তরুণরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫০
সহজলভ্য হওয়ায় মাদকে অল্প বয়সেই ঝুঁকছেন তরুণরা
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

বাংলাদেশে মাদক ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা নিতে আগ্রহী হলেও প্রয়োজনের তুলনায় এসব সেবার সুযোগ খুবই সীমিত। জাতীয় গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা চান। তবে বাস্তবে এ ধরনের সেবা পেয়েছেন মাত্র ১৩ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে অল্প বয়সেই মাদক গ্রহণের প্রবণতা শুরু হচ্ছে। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ করেন। এ ছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক সহজলভ্য।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে ‘রিকভারি ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রফেশনালসের (আইসাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার শুধু মাদক গ্রহণ বন্ধ করার বিষয় নয়; এটি একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, জীবনযাত্রার মান এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক এবং আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ বলেন, জাতীয় গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মাদক সহজলভ্য।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা চান এবং ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবা নিতে আগ্রহী। কিন্তু চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১৩ শতাংশ।

বক্তাদের মতে, চিকিৎসা নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা এবং বাস্তবে সেবা পাওয়ার মধ্যে বড় ব্যবধান দেশে মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার ঘাটতিকে তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও আইসাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম. এ. মোহিত কামাল।

তিনি বলেন, টেকসই পুনরুদ্ধারের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারকে সম্পৃক্ত করা, আফটারকেয়ার, পিয়ার সাপোর্ট, রিল্যাপ্স প্রতিরোধ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা শেষে কেউ যদি পুরোনো পরিবেশ, বেকারত্ব, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক কলঙ্কের মধ্যে ফিরে যান, তাহলে পুনরায় মাদক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে অপমানজনক পরিচয়ে না ডেকে একজন অসুস্থ মানুষ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান অধ্যাপক মোহিত কামাল।

আলোচনায় নারী ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষায়িত মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘রিকভারি মাস’ হিসেবে পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য—‘রিকভারি ইজ রিয়েল: রিস্টোরিং এভরি অ্যাসপেক্ট অব লাইফ’, অর্থাৎ ‘সেরে ওঠা বাস্তব: জীবনের প্রতিটি দিক পুনরুদ্ধার’।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহ্সান শিপু, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘আশ্রয়’-এর পরিচালক মো. শামীম খান, সেফ হোম মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক লুৎফর রহমান মানিক এবং ‘উৎস’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন চৌধুরী সুমন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD