ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘর্ষে আহত সময় টিভির সাংবাদিক সিফাতকে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, নগরবাসী যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই এলাকায় গত সপ্তাহে তিনবার অভিযান চালানোর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চতুর্থ দফার অভিযানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দখলের সমস্যা পাঁচ-ছয় মাসের নয়। বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে এই দখল বিস্তৃত হয়েছে। এর ফলে একজন নাগরিকের স্বাভাবিকভাবে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গতকালও আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, আজও বলছি—ফুটপাত দখলমুক্ত করার এই অভিযান চলমান থাকবে। যতদিন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সফলতা না আসবে, ডিএনসিসির পক্ষ থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
বিজ্ঞাপন
অভিযানের সময় সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও সময় টিভির সাংবাদিক সিফাত ঘটনাস্থলে ফিরে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন উল্লেখ করে তার প্রতি সহানুভূতি জানান তিনি।
পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে সংঘর্ষ হয়েছে—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, প্রতিটি উচ্ছেদ অভিযানের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। অভিযানের সময় পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত থাকেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী দিনের অভিযানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় জনদুর্ভোগ তৈরি হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনার এখতিয়ার ডিএনসিসির রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনি আসন বিবেচনা করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় না।
তিনি জানান, ডিএনসিসির আওতাধীন মোহাম্মদপুর, উত্তরা, তেজগাঁও, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিজের ওপর কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। আমাকে চাপ প্রয়োগ করার কোনো ক্ষমতা কারও নেই। আমার সংস্থা, আমার বিভাগ—আমি সেটা পরিচালনা করব। নগরবাসীকে নগরসেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব আমার। কে চাপ প্রয়োগ করবে, সেটা আমি মোকাবিলা করব।’
উচ্ছেদের পর ফুটপাত কতদিন দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার শুধু পরিষ্কার করাই নয়, ফুটপাত যেন পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা পরিষ্কার দেখেছেন। আমি চেষ্টা করব যেন এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবসময় থাকে। যতদিন কেউ আবার ফুটপাত দখল করে বসার চেষ্টা করবে, ততদিন আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
এ কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।








