Logo

নতুন সদর দপ্তরকে ঘিরে আনসার-ভিডিপির আধুনিকায়নে নতুন দিগন্ত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:২৩
নতুন সদর দপ্তরকে ঘিরে আনসার-ভিডিপির আধুনিকায়নে নতুন দিগন্ত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের দক্ষতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও এগিয়ে নিতে তেজগাঁওয়ে বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি, নতুন সদর দপ্তরের ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি খিলগাঁওয়ে বিদ্যমান সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন

পরে খিলগাঁও সদর দপ্তরে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ এবং ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের বিশাল এই বাহিনীকে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেজগাঁওয়ে প্রায় ১১ বিঘা জায়গায় নির্মাণ হতে যাওয়া নতুন সদর দপ্তর আনসার-ভিডিপির আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয়ভাবে অপারেশন পর্যবেক্ষণ, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সদর দপ্তর ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে সদস্যদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যদের কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন তারা। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আনসার-ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর্শনের ধারাবাহিকতায় বাহিনীটি দেশের অন্যতম বৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি ১৯৯৫ সালে আনসার বাহিনী আইন ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাটালিয়ন আনসার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাহিনীর আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যমান আইনগুলোকে আরও যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বাহিনীর কার্যক্রমকে সমন্বিত ও কার্যকর করতে বিদ্যমান তিনটি আইনকে একত্র করে একটি আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে তিন আইন একীভূত করে নতুন আইনি কাঠামোর উদ্যোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈষম্যহীন কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সদস্যদের দক্ষতা ও আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ এবং ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশনকে সদস্যকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তায় দক্ষ স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নতুন সদর দপ্তর শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হবে না; এটি আধুনিক কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করবে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্রুত যোগাযোগ, অপারেশনাল সমন্বয় এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় এর ভূমিকা থাকবে।

পাশাপাশি ‘প্রান্তিক সংযোগ’, ‘প্রান্তিক শক্তি’, ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ এবং ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্য ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং আর্থসামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং জনমুখী কার্যক্রমকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন সদর দপ্তর এবং সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, এর ফলে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সদস্য এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুযোগও বাড়বে। শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা, সততা ও জনসেবার আদর্শ ধারণ করে ভবিষ্যতে আনসার-ভিডিপি আরও শক্তিশালী ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD