Logo

‘মহান পেশার কারণেই শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:২০
‘মহান পেশার কারণেই শিক্ষকরা আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়’
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একজন শিক্ষক কর্মরত থাকুন কিংবা অবসর জীবনে থাকুন, মহান পেশার কারণেই তিনি আমৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে সম্মানীয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, পারিবারিক পাঠশালার গণ্ডি পেরোনোর পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর সামনে শিক্ষক-শিক্ষিকারাই আদর্শ রোল মডেল। শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন, সে ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে সরকার।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সময়ে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই ‘শিখন’ ও ‘শিক্ষণ’ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তন এবং শিক্ষা সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বাস্তবতার নিরিখে সরকার নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে এবং এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই হাতে পাবে।

শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুখস্থ করার চেয়ে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তোলা জরুরি। কৌতূহল থাকলে একজন শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

‘আনন্দময় শিক্ষা’কে শিখন কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এ পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামের নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শ্রেণিতেও এ বই দেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বাড়িয়েছে। সার্টিফিকেটনির্ভর জ্ঞানের পরিবর্তে কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি শিক্ষকদের সামনেও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর আধুনিকায়ন জরুরি।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষাবঞ্চিত থাকবে না। শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে কেউ ঝরে পড়লেও যেন বেকার থাকতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষা খাত বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার। জাতীয় বাজেটে এবার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান ও তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এ স্তরের শিক্ষার বড় অংশ বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যাতে দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পায়, সে জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়; নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন শিক্ষার অন্যতম মূল লক্ষ্য। জ্ঞান নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হলে তা সমাজের কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণের কারণ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, দেশপ্রেম, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি সম্মান—এসব মূল্যবোধ শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে পরিবারের পর শিক্ষক-শিক্ষিকারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশার মর্যাদা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্কুল, মাদ্রাসা, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকতাকে সুযোগ ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষকতা কখনোই ‘উপায়হীন বিকল্প’ কিংবা সাধারণ চাকরির মতো হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষ যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতা পেশাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হন, সে অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। রাষ্ট্র ও সমাজে শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিও জড়িত। সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকলে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বাড়ে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD