Logo

শিপিং ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান নৌপরিবহনমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:২০
শিপিং ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান নৌপরিবহনমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিপিং, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সমুদ্র ও নৌপথের সম্পদ পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় বাংলাদেশের মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে সামুদ্রিক শিল্পের উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ সমুদ্র, নদী ও নৌপথের প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ। দেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার প্রাকৃতিক নৌপথ এবং বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থান শিপিং, বন্দর পরিচালনা, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন খাতের বিকাশে বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ। একই সঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং পায়রা বন্দরের কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহনে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার ও মেরামত, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, সামুদ্রিক পরিবহন, বন্দর পরিচালনা, লজিস্টিকস এবং অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের মতো খাতে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।

এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতে সামুদ্রিক খাতের অবদানও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশি নাবিকদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। এ জন্য প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, আধুনিক সামুদ্রিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি নাবিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক খাতে অভিজ্ঞ দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিগরি জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। বিমক্সের মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান শেখ রবিউল আলম। তাঁর মতে, অপরিকল্পিতভাবে সম্পদ আহরণ এবং অনিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক কার্যক্রম সমুদ্রের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ ঝুঁকি কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সম্পদ ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি, আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

শিপিং ও সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উদ্যোক্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন মন্ত্রী। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোয়ে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামাত এলাহী এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী।

সামগ্রিকভাবে, বন্দর আধুনিকায়ন, জাহাজ নির্মাণ, দক্ষ নাবিক তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিকে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD