সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ নগরী গড়তে কাজ করছি: চসিক মেয়র

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর ২৯৪টি পূজামণ্ডপ এবং হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য মোট ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নগরীকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। চট্টগ্রাম সবার শহর। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মেয়র জানান, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নগরের ১৬টি থানার আওতাধীন ২৯৪টি পূজামণ্ডপে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ প্রতিটিতে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া জে এম সেন হল পূজামণ্ডপকে পাঁচ লাখ টাকা এবং জামালখানে অবস্থিত চসিক পূজা উদ্যাপন পরিষদের কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
নগরের চারটি সেবক কলোনিতে বসবাসরত হরিজন সম্প্রদায়ের জন্যও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে সিটি করপোরেশন। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
মেয়র বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এখানে সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার ধারণা ব্যাখ্যা করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সেফ সিটি প্রতিষ্ঠার অর্থ কেবল অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়। এমন একটি নগরী গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
এ লক্ষ্য অর্জনে নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য এবং নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে মেয়র বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করে একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে, যা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সড়কের মিড-আইল্যান্ডে গাছ লাগানো এবং সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র।
বিজ্ঞাপন
এসব অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা সংরক্ষণে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নগরীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সহসভাপতি বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন ও অয়ন ধরসহ মহানগরীর বিভিন্ন থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নগরের ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।








