Logo

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির রশি প্রস্তুত আছে: মেয়র শাহাদাত

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৪৭
শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির রশি প্রস্তুত আছে: মেয়র শাহাদাত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী এখনো দেশে অবস্থান করছেন, তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যা, নাশকতা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে নগরের লালদিঘীর পাড়ে জেলা পরিষদ চত্বরে কোতোয়ালি থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শাহাদাত।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পালিয়ে গিয়ে’ তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ‘এতিম’ করে গেছেন এবং বিদেশে অবস্থান করে তাদের উসকানি দিচ্ছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘তার জন্য ফাঁসির রশি রেডি আছে।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘ম্যাক্সিমাম’ নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে গেলেও কিছু নেতাকর্মী এখনো দেশে রয়েছেন। তাদের কাছে থাকা অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসন তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানে উল্লেখ করে দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে হত্যা, গুম, শিক্ষার্থী-জনতার ওপর হামলা, ‘আয়নাঘর’ তৈরি এবং থানা থেকে অস্ত্র লুটের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের কাছে এখনো অস্ত্র থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. শাহাদাত আরও বলেন, তাদের কাছে এমন খবরও এসেছে যে, পাঁচ হাজার টাকা দিলেই বোমাবাজি করা যায়।

আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং মামলা, হামলা, জেল, রিমান্ড, গুম ও হত্যার শিকার হয়েও তারা রাজপথে অবস্থান করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘আমাদের ডিসেম্বরের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। শেখ হাসিনা হত্যা মামলার আসামি। তিনি যদি দেশে আসতে চান, তাহলে আইনের মাধ্যমে আসতে হবে।’

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাজা বা দণ্ড নির্ধারিত হওয়ার পরই তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যথায় রাজনৈতিকভাবে তাদের ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলগুলোর দায়িত্বশীলতার প্রসঙ্গে আবু সুফিয়ান বলেন, সম্প্রতি বিরোধী দলের এক নেতা বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসংলগ্ন আচরণ’ করেছেন। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যায়িত করা যুক্তিসংগত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দেশে মানুষ হত্যা, শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি এবং থানা ও অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িতদের একটি অংশ এখনো সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হত্যা, নাশকতা ও সন্ত্রাসের মামলায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বোমাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলেও জানান তিনি। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশ শেষে জেলা পরিষদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি লালদিঘীর পাড়, বক্সিরহাট হয়ে আন্দরকিল্লা মোড় প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD