Logo

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে নাকি তৃতীয় দেশে পাঠাবে ভারত?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:০৯
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেবে নাকি তৃতীয় দেশে পাঠাবে ভারত?
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে শেখ হাসিনার শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত যাওয়া, ভারতে অবস্থান অব্যাহত রাখা নাকি অন্য কোনো দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এরপর ঢাকার পক্ষ থেকে তার প্রত্যর্পণের দাবি আরও জোরালো করা হয়। ভারত অবশ্য এখনো প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দেশটির আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোতে পারে।

কেন বিষয়টি ভারতের জন্য জটিল

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি শুধু আইনি বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই। একই সঙ্গে নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও ভারতের বিবেচনায় রয়েছে।

শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন উঠতে পারে। ভারতীয় কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নয়, আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

তৃতীয় দেশে পাঠানোর আলোচনা কোথা থেকে

বিজ্ঞাপন

‘তৃতীয় দেশে’ পাঠানোর সম্ভাবনাটি বর্তমানে ভারতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। এটি মূলত একটি নীতিগত প্রস্তাব বা সম্ভাব্য সমঝোতার পথ হিসেবে বিশ্লেষণে এসেছে।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটাতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কোনো নিরাপদ দেশে শেখ হাসিনার স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে। ওই বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের কোনো দেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার এমন কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ২৯ সেপ্টেম্বর বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ ঢাকার অবস্থান তৃতীয় দেশে পাঠানোর ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

শেখ হাসিনার অবস্থানকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ নভেম্বরের শেষভাগে বা ডিসেম্বরের শুরুতে তার সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত নতুন সরকারের সঙ্গে ‘গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ সম্পর্কের কথা বলছে এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুই দেশের সম্পর্ক শুধু শেখ হাসিনার ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়েও পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিরোধের পাশাপাশি এসব বাস্তব স্বার্থও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সামনে তিনটি সম্ভাবনা

বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে তিন ধরনের সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে—বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন বা প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থান অব্যাহত রাখা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা।

বিজ্ঞাপন

তবে এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত ভারতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। বরং নয়াদিল্লির প্রকাশ্য অবস্থান হলো, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার অধীনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ফলে শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় রাখা হবে বা তার প্রত্যর্পণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক আলোচনা এবং দুই দেশের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিপথের ওপর।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD